শাহজাদপুর জামিরতায় প্রযুক্তিনির্ভর ভিশন সেন্টার উদ্বোধন করলেন- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত "
"প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধনী-গরিব সবার জন্য একই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে-- স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী"
আজিজুর রহমান মুন্না, সিরাজগঞ্জঃ
আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য একই মানের স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
শনিবার (২৫ জুলাই)বেলা১১টা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোরজনা ইউনিয়নের যমুনা নদীতীরে জামিরতা ভিশন সেন্টারের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, “গত ৩০ বছর ধরে আমি চক্ষুসেবার সঙ্গে যুক্ত। আগে গ্রামে গ্রামে চক্ষু ক্যাম্প করতাম, বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হতো, এমনকি ক্যাম্পেই ছানি অপারেশন করা হতো। আজ আমি শুধু চক্ষু ক্যাম্প দেখি না, আমি সম্ভাবনার বাংলাদেশ দেখি। আমরা প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য একই মানের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।"
বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “পুরোনো বন্দোবস্তে ফিরে যাওয়ার আর সুযোগ নেই। আমরা চাই জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের সেবা করার দায়িত্ব নিয়ে আসবেন। দায়িত্বের মেয়াদ শেষে তাদের সম্পদের পরিমাণ বাড়বে না, বরং জনগণের কল্যাণে কাজ করার দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।
তরুণ প্রজন্মকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায়, তারা এখনো বিভিন্নভাবে অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ছোটখাটো ইস্যুকে কেন্দ্র করে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে সবাই মিলেমিশে বসবাস করবে। কোনো উগ্রপন্থার স্থান এখানে নেই। নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই সবাই এগিয়ে যাবে।
প্রফেসর এম এ মতিন আই কেয়ার সিস্টেমের সাধারণ সম্পাদক আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনীর আহমেদ এবং স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী স্থপতি ফাহমিদা মুহিত। অনুষ্ঠানে বক্তারা জানান, জামিরতা ভিশন সেন্টারের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় দেশে বসেই বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ ও চক্ষু চিকিৎসাসেবা গ্রহণের সুযোগ পাবেন। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।