সিরাজগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী
স্টাফ রিপোর্টারঃ- উৎসবমুখর পরিবেশে সিরাজগঞ্জে ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পাঁচটিতে বিএনপি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থীরা বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম একটি একটি করে এ ফলাফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী সিরাজগঞ্জ-১ (সিরাজগঞ্জ সদরের একাংশ ও কাজিপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিম রেজা ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬১৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শাহিনুর আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৮১৫ ভোট।সিরাজগঞ্জ-২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৭ হাজার ৫৭৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯৭ ভোট। সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ ও তাড়াশ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আয়নুল হক ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুহা. আব্দুর রউফ সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৮০২ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের এম আকবর আলী পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ২৭৮ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি ও চৌহালী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আলী আলম দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৮০৫ ভোট।
সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মুহিত ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫০৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতিকের প্রার্থী এম এম সাইফ মোস্তাফিজ পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৮২৪ ভোট।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রয়ারি) কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে চলে বিকাল সাড়ে ৪ টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ শেষ হলে ভোট গণণা শুরু হয়। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে মোট ৩৯ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৬ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫৮ জন ভোটার নির্বাচনে অংশ নিয়ে
তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে জুডিশিয়াল ম্যাজস্ট্রট, নির্বাহী ম্যাজস্টেট, সেনাবাহিনী,পুলশ, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিয়োজিত ছিল।