৫ হাজার বিঘা জমিতে ফিরছে ফসলের সম্ভাবনা
রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
একসময় যেখানে বছরের পর বছর জমে থাকত পানি, সেখানে এখন দেখা দিয়েছে নতুন আশার আলো। দীর্ঘ ৪০ বছরের জলাবদ্ধতার অবসান ঘটিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা ইউনিয়নের জগন্নাথপুর ও ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকার প্রায় ৫ হাজার বিঘা জমি চাষাবাদের আওতায় আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৩০০ ফুট পাইপলাইন।
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা শুধু জমিই কেড়ে নেয়নি, থমকে দিয়েছিল এলাকার কৃষিনির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকাও। ফসল উৎপাদন করতে না পারায় অনেক কৃষককে বছরের পর বছর অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাতে হয়েছে। বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পড়ে ছিল অনাবাদি। সমস্যার স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসেন কৃষকেরা। নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেন। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় দুই এলাকায় পাইপলাইন স্থাপন করা হয়।
ঘুড়কা নতুনপাড়া এলাকায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে ১৬ লাখ টাকা এবং জগন্নাথপুর এলাকায় ১ হাজার ১০০ ফুট পাইপলাইন স্থাপনে ১৩ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। দুই এলাকায় মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৯ লাখ টাকা। পুরো অর্থই দিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও কৃষকেরা।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে পানি নিষ্কাশন পাইপলাইনের উদ্বোধন করেন রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিন পানিতে ডুবে থাকায় এসব জমি অনাবাদি পড়ে ছিল। পানি নিষ্কাশন হলে জমিগুলোতে বছরে তিনটি ফসল আবাদ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় ও উৎপাদন দুটোই বাড়বে।
ঘুড়কা নতুনপাড়ার কৃষক তমেজ আলী বলেন, দীর্ঘদিন জমিতে চাষ করতে পারিনি। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন আবার চাষের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
জগন্নাথপুরের কৃষক আব্দুল মমিন বলেন, ৪০ বছর পর জমিতে চাষের সুযোগ পেয়েছি। পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হলে বছরে তিনটি ফসল করতে পারব।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, স্থানীয় মানুষের উদ্যোগে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ জমি চাষের আওতায় আসবে।
বিএডিসির ক্ষুদ্র সেচ বিভাগের প্রকৌশলী আনন্দ বর্মন বলেন, কারিগরি দিক বিবেচনায় নিয়ে পাইপলাইন স্থাপন করা হয়েছে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করলে এটি দীর্ঘমেয়াদে কাজে আসবে।
স্থানীয়দের আশা, পানি নিষ্কাশনের ফলে অনাবাদি পড়ে থাকা জমিতে আবারও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু হবে। বাড়বে কৃষি উৎপাদন, ফিরবে কৃষকের স্বচ্ছলতা।