• শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন
Headline
সিরাজগঞ্জে নতুন কুড়ি স্পোর্টস ২০২৬ খেলোয়াড়দের বাছাই অনুষ্ঠিত সিরাজগঞ্জে ইসলামের দৃষ্টিতে শ্রমিকের অধিকার শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত বগুড়া যাওয়ার পথে সিরাজগঞ্জে মানুষের ভালবাসায় সিক্ত হল- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সিরাজগঞ্জে মিলবে হাম-রুবেলার টিকা, পাবে ৩ লাখ ৯৫ হাজার শিশু সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল চত্বরে ৪৭ তম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ ও বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাংবাদিক রেজাউল করিম খানকে দেখতে গেলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু আমার দায়িত্ব দুস্থ মানুষের সেবা করা — ফয়সাল হাসান মাহমুদ আজ দৈনিক সিরাজগঞ্জ কন্ঠ পত্রিকার সম্পাদক এর মাতার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী সলঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন সাবেক এজিএস দুলাল কাজিপুরে “দোস্ত এইড বাংলাদেশ সোসাইটি”র উদ্যাগে ৪০ জন দুঃস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে নলকূপ বিতরণ 

২৫০ বছরের ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের দই মেলা

Reporter Name / ৩২০ Time View
Update : সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

২৫০’শ বছরের ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের দই মেলা

মো. আইয়ুব আলী, তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ ২৫০’শ বছরের ঐতিহ্য নিয়ে চলনবিল অধুষ্যিত সিরাজগঞ্জের তাড়াশে স্বরস্বতী পূঁজা উপলক্ষ্যে সোমবার দিনব্যাপী দইয়ের মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আর দইয়ের এ মেলাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই এলাকায় সাঁজ সাঁজ রব পড়ে গেছে।
মূলতঃ রবিবার বিকালে মেলার বর্তমান স্থল তাড়াশ ঈদগাহ মাঠে নামি দামি ঘোষদের দই আসার মধ্য দইয়ের মেলা শুরু হয়ে থাকে।
সোমবার ভোর থেকে শুরু হওয়া দিনব্যাপী ওই মুল মেলায় দইয়ের পাশাপাশি ঝুড়ি, মুড়ি, মুড়কি, চিড়া, মোয়া, বাতাসা, কদমা, খেজুর গুড় সহ রসনা বিলাসী খাবার বিকিকিনি হবে।
ঐতিহ্যবাহী চলনবিল অঞ্চলে তাড়াশের দই মেলা নিয়ে রযেছে নানা গল্প কাহিনী।
তাড়াশ উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি রজত ঘোষ জানান, জমিদারী আমলে তাড়াশের তৎকালীন জমিদার পরম বৈঞ্চব বনোয়ারী লাল রায় বাহাদুর প্রথম রশিক রায় মন্দিরের মাঠে দই মেলার প্রচলন করে ছিলেন। এলাকায় এমনও জনশ্রুতি রয়েছে জমিদার রাজা রায় বাহাদুর নিজেও খুব দই ও মিষ্টান্ন পছন্দ করতেন। তাই জমিদার বাড়ীতে আসা অতিথিদের আপ্যায়নে এ অঞ্চলে ঘোষদের তৈরি দই পরিবেশন করতেন।
আর সে থেকেই জমিদার বাড়ীর সম্মুখে রশিক রায় মন্দিরের মাঠে স্বরস্বতী পুঁজা উপলক্ষে তিনি ৩ দিনব্যাপী দই মেলার প্রচলন শুরু করেন। আর সে থেকে প্রতি বছর শীত মৌসুমের মাঘ মাসে স্বরসতী পূজার দিন শ্রী পঞ্চমী তিথিতে দই মেলার শুরু হয়।
তাছাড়া কথিত আছে তৎকালীন সময়ে প্রতি বছর মেলায় আগত সবচেয়ে ভাল সুস্বাদু দই তৈরিকারক ঘোষকে জমিদারের পক্ষ থেকে উপঢৌকন দেওয়ার রেওয়াজও ছিল। তবে জমিদার আমল থেকে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী তাড়াশের দইয়ের মেলা এখনও মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতেই উৎসব আমেজে বসার বাৎসরিক রেওয়াজ এখন ও আছে।

এ দিকে দইয়ের মেলায় আসা এ অঞ্চলের দইয়ের স্বাদের কারনে নামেরও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন-ক্ষীরসা দই, শাহী দই, চান্দাইকোনার, শেরপুরের দই, বগুড়ার দই, টক দই, ডায়েবেটিক, শ্রীপুরী দই এ রকম হরেক নামে ও দামের হেরফেরে শত শত মণ দই বিক্রি হয়।
বিশেষ করে বগুড়ার শেরপুর, রায়গঞ্জের চান্দাইকোনা, ঘুড়কা, নাটোর জেলার গুরুদাসপুরের শ্রীপুর, উল্লাপাড়ার ধরইলের দই, পাবনা জেলার চাটমোহরের হান্ডিয়ালের দই, ডায়েবেটিক, তাড়াশের দই প্রচুুর বেচাকেনা হয়। মহাদেব ঘোষ, বিমল ঘোষ, সুকোমল ঘোষ সহ একাধিক ঘোষের সাথে কথা বলে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দুধের দাম, জ্বালানী, শ্রমিক খরচ, দই পাত্রের মূল্য বৃদ্ধির কারনে দইয়ের দামও কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা বেড়েছে। তবে মেলা দিনব্যাপী হলেও চাহিদা থাকার কারনে মেলায় আসা কোন ঘোষের দই অবিক্রিত থাকে না।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category